
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও ভোট গণনার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
আসিফ বলেন, ‘এবার ভোট গণনাতে একধরনের টেম্পারিং হয়েছে, যার বিভিন্ন প্রমাণ আমরা ইতিমধ্যে পেয়েছি। আমরা ভোট গণনার ক্ষেত্রে এবং ফলাফল ঘোষণায় কমিশনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বলব যে সরকার এবং নির্বাচন যারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।’ ভোট গণনা নিয়ে আপত্তি থাকায় এনসিপি ও ১১–দলীয় ঐক্য ইতিমধ্যে পুনরায় ভোট গণনার আবেদন করেছে বলেও জানান আসিফ মাহমুদ।
এছাড়া আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী নিহত হয়েছেন। এনসিপি যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, সেসবের প্রায় সব জায়গায় দলটির নেতা-কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন, সরকার, দেশের গণমাধ্যম এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বোঝাপড়ার মাধ্যমে ভোট গণনায় একধরনের মেটিকুলাস প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যেই প্ল্যানের উদ্দেশ্য ছিল, বিএনপিকে জাতীয় সংসদের দুই–তৃতীয়াংশ আসন পাইয়ে দেওয়া।
আসিফ মাহমুদ বলেন, একধরনের আন্ডারস্ট্যান্ডিয়ের মধ্য দিয়ে টু–থার্ড মেজরিটি পাইয়ে দেওয়ার যে প্ল্যানের কথা আমরা বলছি, সেটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় এনসিপি ও ১১–দলীয় জোটের অন্য দলকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ।
জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয় পাওয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচনে এনসিপি মনে করে, গণভোটের ন্যায্যতার চেয়েও জাতীয় নির্বাচনের ন্যায্যতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্বাচনে জয় পাওয়া প্রার্থীদের শপথ গ্রহণের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়ার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় আসিফ বলেন, এ ঘটনায় বোঝা যায়, “বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে একধরনের বোঝাপড়া ছিল। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও যাঁরা ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছে” তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।



