
বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে দেশ একটি গভীর গণতান্ত্রিক সংকটের মধ্যে পড়বে বলে বিএনপি আশঙ্কা করছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ স্পষ্টভাবে জানে—এ দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছেন, কারা হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছেন এবং কারা সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। জনগণ এসব ইতিহাস প্রত্যক্ষ করেছে এবং এখনও মূল্যায়ন করার সুযোগ রাখে।
মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল আরও বলেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ পুনর্গঠনের জন্য কারা সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপকল্প দিয়েছিল, সেটাও জনগণের অজানা নয়। একইসঙ্গে জনগণ এটাও দেখেছে—কারা একসময় স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং পরবর্তীতে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের উত্থানের দায় এককভাবে বিএনপির ওপর চাপানো যুক্তিসংগত নয়। আওয়ামী লীগও বিভিন্ন সময় তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দিয়েছে—এ বিষয়টি দেশের মানুষ জানে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক দিন মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা বলেন, বিকাশ বা নগদের নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিপন্থী। ছয় দিন ধরে এসব সেবা সীমিত থাকলে অনলাইন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিএনপির অবস্থান হলো—অনলাইন ব্যবসা ও ডিজিটাল লেনদেন যেন নির্বিঘ্ন থাকে এবং একইসঙ্গে অনৈতিকভাবে ভোটকে প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ যেন তৈরি না হয়।
নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও সহিংসতার আশঙ্কা প্রসঙ্গে মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, বিএনপি কোনো ধরনের উসকানি বা সহিংসতায় জড়াবে না। দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সহনশীলতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নিজেরা কোনো সংঘাতের পথে যাবে না এবং যতটা সম্ভব শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করবে।



