
ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘হ্যাঁ-ভোট’বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর পরিসমাপ্তি ঘটানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশান-২ এর গোল চত্বরে জামায়াতের ভ্রাম্যমাণ নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচনী যে আবহাওয়া, ঈদের মতো উৎসবের যে আনন্দ—তা বর্তমান প্রজন্ম উপভোগ করছে। ২৪-এর আন্দোলনে ‘মেধা না কোটা’র যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তার বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে।”
ডা. খালিদুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালে ‘মেধা না কোটা’—মেধার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার যে স্বপ্ন তরুণ প্রজন্ম দেখেছিল, তার বাস্তবায়ন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে, কিছু কাজ এখনো অসমাপ্ত থেকে গেছে। আমরা আশা করি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘হ্যাঁ-ভোট’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট তৈরির যে কারখানা—তার অন্তত একটি বড় পরিসমাপ্তি ঘটবে।
দেশের সর্বস্তরে ফ্যাসিবাদের যে প্রভাব রয়েছে, তা দূর করতে হলে সৎ, যোগ্য ও ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব প্রয়োজন।
তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ঋণখেলাপি নন, চাঁদাবাজি ও গুন্ডাবাজির সঙ্গে জড়িত নন এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা অন্যায়ের শিকার হলেও কখনো অন্যায়ের পথে যাননি।
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জন, স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি দূর করে গণমানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, নারীদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
‘Aspiring Bangladesh’ কর্মসূচির মাধ্যমে জননীতি ও অর্থনৈতিক নীতির রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নারীদের অধিকার প্রসঙ্গে ডা. খালিদুজ্জামান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট।
তিনি বলেন, ছাত্র সংসদগুলোতে বিপুল সংখ্যক নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির সম্পর্কে দীর্ঘদিনের অপপ্রচার ও ন্যারেটিভের বাস্তবসম্মত জবাব ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।
“আজ জামায়াতে ইসলামী এদেশের সাধারণ ভাই ও বোনদের কাছে কলিজার টুকরা সংগঠনে পরিণত হয়েছে,”—বলেন তিনি।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরে ডা. খালিদুজ্জামান বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে বন্ধ কলকারখানা চালুর বাংলাদেশ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থানের বাংলাদেশ, দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক শিক্ষার বাংলাদেশ এবং মা-বোনদের নিরাপদ চলাচল ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটের অধিকার আদায় করবেই—ইনশাআল্লাহ। আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি স্বচ্ছ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ।”
এর আগে আছর থেকে মাগরিবের সময় টি এন্ড টি কড়াইল বড় মসজিদ থেকে শুরু হয় ডা. খালিদজ্জামানের জনসংযোগ।
মাগরিবের পর থেকে গুলশান-২ গোলচত্বর থেকে শুরু হয় গণসংযোগ। এরপর সেখানে উদ্বোধন করা হয় ভ্রাম্যমাণ কার্যালয়। পরে সেখানেই গণসংযোগ করেন ডা. খালিদ।
এরপর এশার নামাজ পড়ে বনানি সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয় দিনের শেষ গণসংযোগ।



