
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ন্যূনতম পক্ষপাতিত্ব বা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ সহ্য করা হবে না। নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি কর্মচারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, তারা সাধারণের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে সবাইকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তি, দল, কিংবা রাজনৈতিক কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নে জড়িত হওয়া যাবে না। নির্বাচনে সবাইকে আইন, বিধি, জননিরাপত্তা, জনসেবা ও জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যদি কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বা কোনো দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকার বিন্দুমাত্র শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না।
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থ বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে এবং রাখতে হবে। এমনকি কোনো প্রকার খাবারও গ্রহণ করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। নির্বাচন অস্বচ্ছ হলে জাতির জন্য অন্ধকার ভবিষ্যৎ নেমে আসতে পারে। সেজন্য জাতীয় নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব, আচরণ ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপদেষ্টা এসময় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সকলের সহযোগিতায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।
নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, নির্বাচনে কাউকে আইনে ভঙ্গ করতে দেয়া যাবে না। বেআইনি কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, আইন প্রয়োগ ও নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কতৃক জারিকৃত পরিপত্র, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আত্মস্থ ও অনুসরণ করতে হবে। কথায়, কাজে, আচরণে, ঘোষণায় ও বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা অনুসরণের জন্য অধীনস্থ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিনিয়ত নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে জেলা ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ে প্রত্যহ অফিস শুরু কিংবা শেষে অথবা একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনি প্রস্তুতি, বিভিন্ন সমস্যাবলি, বর্তমান কার্যক্রম, সামনের কর্মসূচি, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়াদি এবং আচরণ বিধিমালা কার্যক্রম সম্পর্কে সভা আহবান করা যেতে পারে।



