
প্রায় ৫৪ বছর পর আবারও চাঁদের পথে পা বাড়িয়েছে মানুষ। বুধবার (১ এপ্রিল) নাসা-এর একটি বিশাল রকেটে চড়ে চার নভোচারী চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন, যা মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। কমলা-সাদা রঙের বিশাল এই রকেটের প্রচণ্ড গর্জনে উৎক্ষেপণের মুহূর্তে আকাশ কেঁপে ওঠে। উৎক্ষেপণের সময় নাসার কর্মী ও উপস্থিত দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।
উৎক্ষেপণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানান, নভোচারীরা ‘নিরাপদ, সুরক্ষিত ও অত্যন্ত উৎফুল্ল’ আছেন।
নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাপসুলটি প্রায় ১৫ ফুট চওড়া ও ৯ ফুট উঁচু। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ ক্যাপসুল কক্ষপথে পৌঁছবে। সেখানে নভোচারীরা নানান পরীক্ষা–নিরীক্ষা করবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এটি চাঁদে যাওয়ার জন্য সবুজ সংকেত পাবে।
আর্টেমিস-২ মিশনের এই দলে রয়েছেন চার নভোচারী—রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কক এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। তাদের মধ্যে তিনজন মার্কিন এবং একজন কানাডিয়ান। ১০ দিনের এই মিশনে তাঁরা চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
উৎক্ষেপণের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময় নভোচারীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এসময় জেরেমি হ্যানসেন বলেন, “আমরা সমগ্র মানবজাতির জন্য যাচ্ছি।” পরে মিশনের লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন নভোচারীদের উদ্দেশে বলেন, তারা এই অভিযানে বিশ্বজুড়ে মানুষের আশা-স্বপ্ন সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন।
এই মিশনের প্রথম ধাপে মহাকাশযানটির নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে, কারণ এটি আগে কখনো মানুষ বহন করেনি। এরপর প্রায় ১০ দিনের অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন, তবে সেখানে অবতরণ করবেন না।
এছাড়া ডকিং সিমুলেশনের মাধ্যমে মহাকাশযানের ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হবে।
দীর্ঘ বিলম্ব ও বিপুল ব্যয়ের পর বাস্তবায়িত এই মিশনকে ভবিষ্যতে চাঁদে মানব অবতরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



