
তীব্র শীত ও চরম আবহাওয়ার মানবিক দিক বিবেচনা করে আগামী সাত দিন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে কোনো ধরনের বোমা হামলা চালাবে না রাশিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি অনুরোধের প্রেক্ষিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বৃহস্পতিবার এক ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, "অত্যন্ত বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অনুরোধ করেছিলাম যেন এক সপ্তাহের জন্য কিয়েভ ও পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে হামলা বন্ধ রাখা হয়। তিনি আমার সেই অনুরোধে রাজি হয়েছেন।"
জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, "চরম শীতের এই সময়ে কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্যান্য শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি।" জেলেনস্কি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় আলোচকরা এই সাময়িক বিরতির বিষয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাত অবসানের পথে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
শীতে বিপর্যস্ত কিয়েভ ও বিদ্যুৎ সংকট
রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলায় বিদ্যুৎ ও হিটিং অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে কিয়েভবাসী। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎসকো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, শহরের ৪৫৪টি আবাসিক ভবনে এখনও হিটিং ব্যবস্থা অচল হয়ে আছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে কিয়েভের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে মাইনাস ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। তীব্র শীতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যখন চরমে, তখন এই এক সপ্তাহের বিরতি কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি কেবল ইউক্রেনেই নয়, দেখা দিয়েছে রাশিয়াতেও। মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে মস্কো গত ২০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভারী তুষারপাতের সাক্ষী হয়েছে।
দেহ বিনিময় ও রাশিয়ার সতর্কতা
বৃহস্পতিবার দুই দেশ যুদ্ধে নিহত সেনাদের মরদেহ বিনিময় করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সাময়িক এই স্বস্তির মধ্যেও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশয় কাটেনি। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, ইউক্রেন ও তার মিত্রদের তৈরি করা তথাকথিত ২০-দফার কোনো ‘সংশোধিত’ শান্তি পরিকল্পনা এখনও মস্কোর হাতে পৌঁছায়নি। উল্টো তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেন অতীতে যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফ্রন্টলাইনে সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে। টানা চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা এবং এই সাময়িক বিরতি কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ দেখাতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই



