
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, মাতারবাড়ি এলাকায় এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব সক্রিয়ভাবে বিবেচনাধীন রয়েছে। এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উপায় খুঁজতে এবং অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা পরিদর্শন করেন ও প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন, এসময় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যমান জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা যাচাই করাও এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পটি ঠিকাদার নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার কারণে কমিশনিংয়ের আগেই চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দেশে স্থাপিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পূরণ করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
বিপুল ব্যয়ে বাস্তবায়িত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না হওয়াকে তিনি উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে স্টোরেজ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, কোভিড-১৯ মহামারী এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়েছে, যার প্রভাব থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়।
তিনি জানান, বর্তমানে কয়লা খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। অতীতে সরবরাহকারীদের তথ্যের ওপর নির্ভরতা থাকলেও এখন মন্ত্রণালয়, বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা সরাসরি পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে কোনো ধরনের সংকট তৈরি না হয়।
রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী জাহাজযোগে সাগরে স্থাপিত এসপিএম বয়া পরিদর্শন করেন এবং পরে মাতারবাড়ি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাবিত স্থান ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।



