বাংলা নববর্ষের এই আনন্দঘন মুহূর্তে দেশীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীরাও মেতে উঠেছেন বাঙালির প্রাণের উৎসবে।
বাংলা নববর্ষের এই আনন্দঘন মুহূর্তে দেশীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীরাও মেতে উঠেছেন বাঙালির প্রাণের উৎসবে।ছবি: আরটিএনএন

বৈশাখের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বাংলা নববর্ষের এই আনন্দঘন মুহূর্তে দেশীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীরাও মেতে উঠেছেন বাঙালির প্রাণের উৎসবে। বর্ণিল পোশাক, মুখে আলপনা এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ছোঁয়ায় তারা যেন হয়ে উঠেছেন একেবারে বাঙালি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান, বিশেষ করে টিএসসি এলাকা, চারুকলা অনুষদ ও বটতলায় শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিদেশি শিক্ষার্থীরা লাল-সাদা শাড়ি, পাঞ্জাবি ও ফতুয়া পরে উৎসবে অংশ নেন। অনেকেই মাথায় ফুলের মালা ও হাতে রঙিন চুড়ি পরে বৈশাখী আবহে নিজেকে সাজিয়ে তোলেন।

পাকিস্তান থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থী শাহবাজ রহমান জানান, বাংলাদেশের সংস্কৃতি তাদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের এই আয়োজন তাদের জন্য নতুন হলেও এর আনন্দ ও উচ্ছ্বাস খুব দ্রুতই তাদের আপন করে নিয়েছে। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি উৎসব নয়, এটি একটি সংস্কৃতির প্রকাশ, যা সবাইকে একত্রিত করে।”

চারুকলা অনুষদের আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা-এ বিদেশি শিক্ষার্থীদের সরব অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা বিভিন্ন মুখোশ, প্রতীকী ভাস্কর্য এবং রঙিন ব্যানার হাতে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় তারা ছবি তোলেন, নাচেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেন।

শুধু অংশগ্রহণই নয়, অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী বাংলা গান গাওয়া ও নাচের মধ্য দিয়েও তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আয়োজকরাও বিদেশি শিক্ষার্থীদের এমন অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিশ্বদরবারে আরও পরিচিতি পাচ্ছে এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বৈশাখের এই উৎসব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যেখানে দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। সংস্কৃতির এই সার্বজনীনতাই নববর্ষের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য, যা ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়।