
পয়লা বৈশাখ উদযাপনে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত উৎসবস্থলে। বৈশাখকে বরণ করতে ভোর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, চারুকলা অনুষদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ও আশপাশের সড়কগুলোতে মানুষের ঢল নামে। সব বয়সী মানুষ, পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে উৎসবের আমেজে।
সকালবেলায় সূর্য ওঠার আগেই অনেকেই চলে আসেন প্রিয় এই প্রাঙ্গণে। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণী, নারীদের খোঁপায় গাঁথা ফুল, পুরুষদের পাঞ্জাবিতে বৈশাখের ছোঁয়া-সব মিলিয়ে চারদিকে সৃষ্টি হয় এক বর্ণিল আবহ। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে বরণ করা হয় নতুন বছর।
চারুকলা অনুষদের সামনে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। ঐতিহ্যবাহী আনন্দ শোভাযাত্রা উপলক্ষে নানা রঙের মুখোশ, পাপেট ও প্রতীকী শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়। এসব শিল্পকর্ম দেখতে ও ছবি তুলতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হিসেবে শোভাযাত্রাটি সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
টিএসসি এলাকায় চলতে থাকে নানা আয়োজন। পথনাটক, লোকসংগীত ও বাউল গানের পরিবেশনা উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা। পাশাপাশি দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে বায়োস্কোপ, লাঠিখেলা, নাগরদোলা, পুতুলনাচ ও হালখাতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া বসে তৈরি সামগ্রী, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের অস্থায়ী দোকান, যা উৎসবে যোগ করে বাড়তি বৈচিত্র্য।
উৎসবে আসা শিক্ষার্থী তুলি আক্তার বলেন, “প্রতি বছরই এখানে আসি। বন্ধুদের সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন না করলে যেন বছরটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।” আরেক দর্শনার্থী জানান, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখের পরিবেশটা আলাদা—এখানে এলে সত্যিকারের বাঙালিয়ানা অনুভব করা যায়।”
উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল জোরদার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি, সিসিটিভি নজরদারি ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়, যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। সকাল থেকেই ঢাবি এলাকায় ছিল উপচে পড়া জনসমাগম, তবে ভিড়ের মধ্যেও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিলেন সবাই।
সব মিলিয়ে এবারের পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ আবারও প্রমাণ করেছে-এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত মিলনমেলা। নতুন বছরের প্রথম দিনটি এখানে উদযাপন করে মানুষ যেন নতুন উদ্দীপনা ও আনন্দে ভরে ওঠে।



