
জাতীয় দলের বাইরে থাকা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পথটি অবশেষে প্রশস্ত হতে শুরু করেছে।
২০২৬ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় সাকিবের নাম যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। বিসিবির সাম্প্রতিক বোর্ড সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে জাতীয় দলের আসন্ন সকল সিরিজের জন্য সাকিবকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাখা হবে।
সাকিবের ফেরার বিষয়টি এখন কেবল সময়ের ব্যাপার হলেও বোর্ডের পক্ষ থেকে কিছু বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিসিবির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, সাকিবের মাঠে ফেরার ক্ষেত্রে তার বর্তমান ফিটনেস এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার মানসিক প্রস্তুতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিসিবি সাকিবের বিরুদ্ধে থাকা আইনি জটিলতা নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারও সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মাঠে ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে।
নতুন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন সাকিবের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন এবং তার প্রস্তুতির ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছেন। নির্বাচক প্যানেলের মতে, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত সাকিবকে জাতীয় দলের সেবায় পেতে চায় বিসিবি। বর্তমানে সাকিবের ফর্ম নিয়ে কোনো সংশয় না থাকলেও মাঠে সরাসরি যোগ দেওয়ার আগে তাকে প্রয়োজনীয় মেডিকেল ও কন্ডিশনিং ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।
তার দলে ফেরার ক্ষেত্রে এক শর্ত বেঁধে দিয়েছেন হাবিবুল। তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কাছে অনেক কিছু ডিমান্ড করে। তাই এখানে প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে (সাকিব) যদি রেডি থাকে এবং লম্বা সময়ের জন্য খেলতে চায়, তবে আমরা অবশ্যই তাকে বিবেচনায় রাখব।"
সব বাধা পেরিয়ে সাকিব আল হাসান আবার মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে নামবেন-এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছেন বাংলাদেশের অগণিত ক্রিকেট ভক্ত।



