
তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ও নির্ধারণী ওয়ানডেতে, সফরকারী নিউজিল্যান্ডকে ২৬৬ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। শান্ত ও লিটনের ব্যাটে ভর করে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটালেও, স্লগ ওভারে ব্যর্থতায় বড় স্কোরের আশা ভেস্তে যায় টাইগারদের।
সেঞ্চুরি করে নাজমুল হোসেন শান্ত যখন আউট হন তখন বাংলাদেশেরে স্কোর ৪৩ ওভারে ৫ উইকেটে ২২১ রান। ষষ্ঠ উইকেটে তৌহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ রানের গতিকে দরকার অনুযায়ী গতিশীল করতে পারেনি। যদিও ২৯ বলে ৩৫ রান যোগ করে এ জুটি।
৪৮ ওভারে ২৫৬ রানের সময় ঝুলিতে ২২ রান নিয়ে বিদায় নেন মিরাজ। ২৫৭ রানের শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ইসলাম আউট হলে, স্লগ ওভারে আবারও ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। শেষ দুই ওভারে মাত্র ১০ রান তুলতে সমর্থ হয় টাইগাররা।
নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানে বাংলাদেশের ইনিংস। ২৯ বরে ৩৩ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন তৌহিদ হৃদয়।
এর আগে চট্টগ্রামের লেফটেন্যান্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় নিউজিল্যান্ড। নেমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে দলীয় রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান। উইল ও'রোর্কের বলে টম ল্যাথামের হাতে ক্যাচ দেন এ টাইগার ওপেনার।
দলীয় ৯ রানে ও'রোর্কের দ্বিতীয় শিকার হন তানজিদ তামিম। সাজঘরে ফেরার আগে ৫ বলে ১ রান সংগ্রহ করেন তিনি। দুই ওপেনারকে হারিয়ে শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় টাইগাররা।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাবধানে ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু ও'রোর্কের বাইরের বল রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে স্ট্যাম্পে আনেন সৌম্য সরকার। আউটের আগে ২৬ বলে ১৮ রান করেন তিনি।
দলীয় ৩২ রানে ৩ উইকেট পতনের পর হাল ধরেন শান্ত ও লিটন। সাবধানী ব্যাটিংয়ে ক্রিজে থিতু হন তারা। এরপর রানের চাকা ঘোরাতে শুরু করেন দুজন। শান্ত ও লিটন দাসের ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রানের জুটিতে দলকে পথ দেখান তারা।
কিউই বোলারদের হতাশ করে অর্ধশত তুলে নেন শান্ত ও লিটন। এরপর শুরু করেন হাত খুলে খেলতে। কিন্তু হঠাৎই ভুল করে বসেন লিটন দাস। বামহাতি অফস্পিনার লেনক্স’র লেগ স্ট্যাম্পের বল জায়গা বদল করে খেলতে গিয়ে পুরোপপুরি পরাস্ত হন তিনি। এতে বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরতে হয় সেঞ্চুরির আশা জাগানো লিটনকে। দলীয় ১৯২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
তবে লিটনের মত ভুল করেন নি শান্ত। মাথা ঠাণ্ডা ও নজর তীক্ষ্ন রেখে রান তুলতে থাকেন তিনি। এভাবেই তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। ১১৪ বলে ৯টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে এই ম্যাজিক ফিগহারে পৌঁছান শান্ত।
যদিও ইনিংসে আর লম্বা করতে পারেন নি শান্ত। লেনক্সের বল তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে নাথান স্মিথের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ১০৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। এরপর আর স্ট্রাইক রেট বাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে উইল ও'রোর্ক তিনটি উইকেট শিকার করেন। দুটি করে উইকেট দখল করেন- বেনি লিস্টার ও জাইডেন লেনক্স। একটি উইকেট পান ডিন ফক্সক্রফ্ট।



