
সার্ক কোটা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন দেশীয় ফুটবলার রা। ফলে এই নিয়মের বিরোধিতা করে ‘আন্দোলনে’ নেমেছে দেশের দুই সেরা ক্লাব আবাহনী-মোহামেডান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সার্ক কোটা বাতিলের দাবিতে এই দুই ক্লাবের খেলোয়াড়রা বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে চিঠি দিয়েছেন, যা হস্তান্তর করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের কাছে।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে পারস্পরিক সম্পর্ক বাড়াতে চালু হওয়া একটি নিয়মই এখন বাংলাদেশে তৈরি করেছে অস্বস্তির নতুন অধ্যায়। সার্কভুক্ত দেশের ফুটবলারদের ‘স্থানীয়’ হিসেবে খেলার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কাগজে-কলমে সহযোগিতার বার্তা দিলেও মাঠে এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দেশের ফুটবলাররা। সার্ক কোটায় তৈরি হয়েছে অস্বস্তি।
এই নীতির সুবিধা সবচেয়ে দ্রুত কাজে লাগিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এবারের লিগে দলটিতে সার্কভুক্ত দেশের ফুটবলারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ফলও পেয়েছে তারা-ফেডারেশন কাপে গ্রুপসেরা হয়ে জায়গা করে নিয়েছে শেষ চারে। কিন্তু এই সাফল্যের উল্টো পিঠেই দেখা দিচ্ছে নতুন এক সংকট, যেখানে স্থানীয় ফুটবলারদের জায়গা সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটেই সরব হয়েছেন দেশের ঐতিহ্যবাহী দুই ক্লাব আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবলাররা। সার্ক কোটা বাতিলের দাবিতে তারা বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে চিঠি দিয়েছেন, যা হস্তান্তর করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের কাছে।
ফুটবলারদের অভিযোগ, বর্তমান কাঠামোয় একটি দলে সার্কভুক্ত পাঁচজন, সার্কের বাইরের তিনজন এবং একটি বয়সভিত্তিক খেলোয়াড় বাধ্যতামূলক হওয়ায় স্থানীয়দের সুযোগ মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। আবাহনীর ফুটবলার মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ভাষায়, ‘সার্কের পাঁচজন, সার্কের বাইরের দেশের তিনজন, বয়সভিত্তিক একজন ফুটবলার বাধ্যতামূলক খেলাতে হবে। একটি দলে তিনজন বিদেশি কোটা আর পাঁচজনই যদি সার্ক খেলায় তাহলে সেই দলে দুজনের বেশি (স্থানীয়) খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পায় না। এ জন্য আমরা সার্ক ফুটবলার বাতিলের দাবি জানিয়েছি।’
এই নিয়মের আরেকটি বাস্তবতা তুলে ধরেছেন মোহামেডানের ডিফেন্ডার রহমত মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মধ্যে শুধু তারিক কাজী ভুটান লিগে খেলছে। অন্য কোনো দেশে এখনো আমাদের দেশের ফুটবলাররা আমন্ত্রণ পাচ্ছেন না। অন্য দেশের ফুটবলাররা ঠিকই আমাদের দেশে খেলছে। তাই আমরা এ ব্যাপারে ফেডারেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’
ফুটবলারদের মতে, পারস্পরিক সুযোগ তৈরি না হয়ে একতরফাভাবে বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রবেশ বাড়ছে। ফলে স্থানীয়দের জন্য প্রতিযোগিতা অসম হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে আর্থিক বিষয়টিও বড় হয়ে উঠছে। তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকে সার্কভুক্ত দেশের খেলোয়াড় পাওয়া যাওয়ায় ক্লাবগুলো তাদের দিকেই ঝুঁকছে বেশি।
তবে এই আন্দোলন শুধু একটি কোটা বাতিলের দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়। ফুটবলাররা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় খেলোয়াড় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার, লিগে দল সংখ্যা বাড়ানো, খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি কোটা কমানোর মতো বিষয়ও সামনে এনেছেন।
সার্ক অঞ্চলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সহযোগিতা বাড়ানোর যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই নিয়ম চালু হয়েছিল, সেটিই এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে বাংলাদেশে। মাঠের খেলায় যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে, তেমনি নীতির প্রশ্নেও যে লড়াই তৈরি হতে পারে-সার্ক কোটা বিতর্ক যেন সেই বাস্তবতারই নতুন উদাহরণ!



