ভারতের সঞ্জু স্যামসন এবং নিউজিল্যান্ডের অ্যামেলিয়া কার
ভারতের সঞ্জু স্যামসন এবং নিউজিল্যান্ডের অ্যামেলিয়া কারছবি: সংগৃহীত

মার্চ মাসের আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কার জিতে নিলেন ভারতের সঞ্জু স্যামসন এবং নিউজিল্যান্ডের অ্যামেলিয়া কার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপাজয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখা স্যামসন এবং ব্যাট-বলে একই সঙ্গে দাপট দেখানো কার — দুজনের পারফরম্যান্সই গত মাসে ছিল রীতিমতো চোখ ধাঁধানো।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) আইসিসি মিডিয়া রিলিজের মাধ্যমে এমন তথ্য জানা গেছে। 

পুরস্কার ঘোষণায় সঞ্জু স্যামসন বলেন, 'এই পুরস্কার পাওয়া অসাধারণ একটা অনুভূতি, বিশেষ করে যখন আমার ক্রিকেট জীবনের সবচেয়ে অবিস্মরণীয় সময়ের মধ্যে এটি এলো।'

পুরুষ বিভাগে স্যামসন পেছনে ফেললেন স্বদেশি জসপ্রিত বুমরাহ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কনর এস্টারহুইজেনকে।

আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারত শুধু শিরোপাই ধরে রাখেনি, দেশের মাটিতে প্রথম দল হিসেবে ট্রফি জিতেছে। আর এই ঐতিহাসিক অর্জনের কেন্দ্রে ছিলেন কেরালার এই ওপেনার।

কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে নকআউট পর্বে অপরাজিত ৯৭, মুম্বাইয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮৯ এবং ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও ৮৯ টুর্নামেন্টের নির্ণায়ক মুহূর্তগুলোতে বারবার দলের হাল ধরেছেন স্যামসন। স্বাভাবিকভাবেই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।

ব্যাট-বলে অপ্রতিরোধ্য কার

নারী বিভাগে অ্যামেলিয়া কার এটি তাঁর তৃতীয় প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কার। এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরেও এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। এবার তিনি পেছনে ফেললেন অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আয়াবোঙ্গা খাকাকে।

মার্চে কারের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান রীতিমতো বিস্ময়কর। চারটি ওয়ানডেতে ৭৮.৫৭ স্ট্রাইক রেটে ১৭৬ রানের পাশাপাশি লেগস্পিনে মাত্র ৩.৭৭ ইকোনমিতে নিয়েছেন ১৮টি উইকেট। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে ৩৪ রানের অসাধারণ বোলিং ছিল মাসের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি। সেই সিরিজে নিউজিল্যান্ড জিতেছে ৩-০ ব্যবধানে।

টি-টোয়েন্টিতেও তাঁর দাপট ছিল সমানতালে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৫৮.৬২ স্ট্রাইক রেটে ২৭৬ রান এবং ৬ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কারও তাঁরই দখলে।

কার বলেন, 'হোয়াইট ফার্নসের জন্য এটি দারুণ একটি মাস ছিল। দলের হয়ে জয়ে অবদান রাখতে পারা সবসময়ই ভালো লাগে, তবে পুরো দলের খেলার ধরন, নিঃস্বার্থতা আর বিশ্বাস — এটাই ছিল আমার কাছে এই মাসের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।'

আইসিসি-র নিবন্ধিত বৈশ্বিক ভক্তদের ভোট এবং সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের রায়ের ভিত্তিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আইসিসি মিডিয়া রিলিজ