
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়ে নামিবিয়াকে ১০২ রানে হারিয়ে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান। বুধবার কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৩ উইকেটে ১৯৯ রানের বিশাল স্কোর গড়ে। এই ম্যাচে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম শতক হাঁকান সাহেবজাদা ফারহান।
২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার ৫৮ বলে ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন। তিনি ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান। অন্যদিকে বল হাতে উসমান তারিক ৪ উইকেট নিয়ে ১৬ রান দিয়ে নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন। এই জয়ে পাকিস্তান ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের সুপার এইট পর্বে তাদের স্থান নিশ্চিত করল। অন্যদিকে নামিবিয়ার গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের সবকটিতেই হার নিশ্চিত হলো।
২০২৫ সালের শুরু থেকে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফারহান এ নিয়ে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি শতক হাঁকালেন। ম্যাচ শেষে ডানহাতি এই ব্যাটার বলেন, "আমি গত পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছি এবং কোনো ম্যাচ মিস করি না। দেশে ঘরোয়া ক্রিকেটে করা কঠোর পরিশ্রম আজ কাজে লেগেছে।"
তিনি আরও বলেন, "শুরুতে উইকেট সহজ ছিল না। আমি অধিনায়ককে বলেছিলাম এবং আমরা সম্মত হয়েছিলাম যে ষষ্ঠ ওভার পর্যন্ত স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলব, এরপর থেকে আমার স্বাভাবিক খেলা খেলব। আমরা পরপর দুটি উইকেট হারিয়েছিলাম, তাই পরিকল্পনা ছিল জুটি গড়ে তারপর আক্রমণ করা।"
গত রবিবার ভারতের কাছে হারের পর আরেকটি পরাজয় পাকিস্তানকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিত এবং গ্রুপ 'এ' থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা নেদারল্যান্ডস এগিয়ে যেত। তবে ফারহানের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। তিনি পেসার জ্যাক ব্রাসেলের বলে একটি ছক্কা ও একটি চার মেরে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছান এবং শেষ ওভারে গেরহার্ড ইরাসমাসের বলে সিঙ্গেল নিয়ে শতক পূর্ণ করেন। ফারহানকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক সালমান আগা। তিনি ২৩ বলে ৩৮ রান করেন এবং দ্বিতীয় উইকেটে ফারহানের সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি গড়েন।
বাবর আজমকে বাদ দিয়ে শাদাব খানকে পাঁচ নম্বরে নামানো হয়। তিনিও অধিনায়কের মতোই আক্রমণাত্মক ছিলেন এবং ২২ বলে অপরাজিত ৩৬ রান করেন। ফারহানের সঙ্গে মাত্র ৬.৪ ওভারে ৮১ রানের অপরাজিত বিধ্বংসী জুটিতে শাদাব তিনটি ছক্কা হাঁকান। জবাবে নামিবিয়ার রান তাড়া কখনোই গতি পায়নি। যদিও ওপেনার লরেন স্টিনক্যাম্প ভালো শুরু করে ২৩ রানে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু এরপর আফ্রিকান দলটি নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে।
প্রথম তিন ম্যাচে খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে পাকিস্তান পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদিকেও বাদ দিয়েছিল, বিশেষ করে রবিবার ভারতের বিপক্ষে দুই ওভারে ৩১ রান দেওয়ার পর। স্পিনার শাদাব খান (৩-১৯) ব্যাট হাতে যেমন জ্বলেছিলেন, বল হাতেও তেমনি কার্যকরী ভূমিকা রাখেন। তিনি নামিবিয়ার অধিনায়ক ইরাসমাসকে আউট করেন এবং মিডল-অর্ডার ব্যাটার আলেকজান্ডার বুসিং-ভলশেঙ্ককে (২০) স্টাম্পড করেন যখন তিনি রান রেটের চাপে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন।
স্পিনার উসমান তারিক লেজের দিকের ব্যাটারদের সাজঘরে ফেরালে নামিবিয়া মাত্র ৯৭ রানে অলআউট হয়ে যায় এবং গ্রুপের তলানিতেই থেকে যায়। পাকিস্তান সুপার এইটে নিশ্চিত হওয়া শেষ দল হিসেবে আগামী রবিবার কলম্বোতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।
ফারহানের শতকের ফলে এটিই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যেখানে তিনটি শতক হলো। এর আগে সোমবার শ্রীলঙ্কার পাথুম নিশাঙ্কা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং মঙ্গলবার কানাডার যুবরাজ সামা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শতক হাঁকিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে আহমেদ শেহজাদের পর ফারহান দ্বিতীয় পাকিস্তানি হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শতক করার গৌরব অর্জন করলেন।



