শিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম
শিবির সভাপতি নূরুল ইসলামছবি: সংগৃহীত

জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা এবং গণভোটে পাওয়া জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করার যেকোনো অপচেষ্টা ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না। তিনি দাবি করেন, রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে আইনি কৌশলের মাধ্যমে নস্যাৎ করার চেষ্টা হলে ছাত্র-জনতা তার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অনুষ্ঠিত ছাত্রশিবিরের মাসিক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠক ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এ বৈঠকে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েটের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নূরুল ইসলাম বলেন, ২৫টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বর্তমানে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতার মুখে পড়েছে এবং স্বাক্ষরকারী দলগুলোর মধ্যেই মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোটে বিপুল জনগণ সনদের পক্ষে মত দেয়ার পরও সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সেই রায়কে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। 

তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবির জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে মাঠে সক্রিয় থাকবে এবং জনমত গঠনে ভূমিকা রাখবে।

সভাপতি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণভোটে ৬৮.৫৯ শতাংশ মানুষ সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও জনগণের সরাসরি দেয়া এই রায় উপেক্ষা করার সুযোগ কোনো সরকারের নেই।

তিনি সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব ও টালবাহানা জনগণের ম্যান্ডেটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার অভিযোগ, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ কমিশন এবং বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগগুলো সংশোধন বা বাতিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার দলীয় প্রভাবের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছ বাছাই প্রক্রিয়া ও সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দুই দিনব্যাপী বৈঠকে মার্চ মাসের সাংগঠনিক কার্যক্রমের রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয় এবং এপ্রিল মাসের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সভায় সেক্রেটারিয়েট সদস্যদের ব্যক্তিগত ও বিভাগীয় প্রতিবেদন, অঞ্চলভিত্তিক শাখাসমূহের কার্যক্রম, বিভিন্ন ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণসহ সংগঠনের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শেষে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।