
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক শক্তিশালী জনসম্পৃক্ততা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার উদ্যোগে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নির্বাচনকে প্রভাবিত বা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার যেকোনো চেষ্টা ঠেকাতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সাহসী ও সচেতন জনশক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব আসনে জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হয়েছে, সেখানে দলের জনশক্তি সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলেও স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের প্রতিরোধের কারণে তা সফল হয়নি।
তিনি বলেন, জনশক্তির দৃঢ় অবস্থানের কারণে পরবর্তীতে জেলার তিনটি আসনের কোনোটি নিয়েই আর কারচুপির সুযোগ তৈরি হয়নি এবং ওই আসনগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হন।
অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ আরও বলেন, অপরাধীরা সব সময় দুর্বল থাকে এবং শক্ত প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। তার মতে, তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ দুর্বল করতে হলে মাঠপর্যায়ের জনশক্তিকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে। এতে ভোট কারচুপি বা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার সুযোগ কমে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন দেশের সংবিধান ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলো বাহাত্তরের সংবিধানকে নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করার লক্ষ্যে বারবার সংশোধন করেছে এবং সেটিকে ক্ষমতাসীনদের স্বার্থরক্ষার সংবিধানে পরিণত করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার আগে গণভোটের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে সে প্রতিশ্রুতি রক্ষার পথে এগোয়নি।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করার পর নতুন করে আলোচনার সুযোগ নেই; এখন প্রয়োজন সনদ বাস্তবায়ন। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা আমীর অ্যাডভোকেট মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দলের মহানগর ও থানা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তাদের মধ্যে মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমদ খান, সহকারী সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, কর্মপরিষদ সদস্য আ. ফ. ম ইউসুফ, শামীম হাসনাইন, সাইয়েদ মুহাম্মদ জুবায়ের ও আব্দুল মতিনসহ আরও অনেকে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনব্যবস্থা ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



