
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র তৎপরতা দেখা দিয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ।
জানা গেছে, পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন হল, বিভাগ ও ব্যাচভিত্তিক গ্রুপে সভা-সমাবেশ এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমর্থন আদায়ে কাজ করছেন। ব্যক্তিগত যোগাযোগ জোরদার করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অনেকেই।
একাধিক পদপ্রত্যাশী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে তারা নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন। তাই কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
তবে যোগ্যতার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কেউ ভবিষ্যতে পদ দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন, আবার কেউ সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এতে সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও প্রত্যাশা ও হিসাব-নিকাশ বাড়ছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে পৃথক বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হলেও এর আড়ালে সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, এবার তারা ত্যাগী, পরীক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্ব দেখতে চান। শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক শাহরিয়ার হামিম বলেন, রাজপথে সক্রিয়, মেধাবী ও সময়োপযোগী নেতৃত্বই সংগঠনের জন্য প্রয়োজন।
স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহিদুজ্জামান জ্যোতি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের হাতেই নেতৃত্ব আসা উচিত। একই মত প্রকাশ করে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব সৈয়দ ইয়ানাথ ইসলাম বলেন, মিডিয়া হাইপ নয়—ত্যাগ ও সংগ্রামের ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্ধারণ করা উচিত।
কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব তাসনিয়া জান্নাত চৌধুরী বলেন, প্রকৃত যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। আর কর্মী সাদমান সাকিবের মতে, যারা দীর্ঘদিন ধরে কর্মীদের পাশে থেকেছেন এবং সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন, তারাই শীর্ষ পদে আসা উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিযোগিতা সংগঠনের জন্য ইতিবাচক হতে পারে, যদি তা স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। তবে অতিরিক্ত লবিং ও গ্রুপিং অভ্যন্তরীণ বিভক্তির ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে ক্যাম্পাসে এখন উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহ বিরাজ করছে। শীর্ষ পদে কারা আসছেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের জন্য।



