
পেশীশক্তি প্রদর্শন ও আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের পথে বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা ও ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ছাত্ররাজনীতির প্রকৃত লক্ষ্য বাস্তবায়িত হওয়া উচিত।
বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘পেশীশক্তি প্রদর্শন ও আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা: ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের পথে চ্যালেঞ্জ ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ছাত্রশিবিরের মেডিকেল জোন সেমিনারটি আয়োজন করে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের মেডিকেল জোনের সভাপতি ডা. যায়েদ আহমাদ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. জুলফিকার আলী।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ১১ মার্চের অন্যতম শহীদ আইয়ুব আলীর ভাই গোলাম হোসেন। তিনি বলেন, শহীদ আইয়ুব অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক দীপ্ত কণ্ঠস্বর ছিলেন। তিনি কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি। বক্তব্যের শেষে তিনি শহীদদের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি জানান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ। তিনি বলেন, ছাত্ররা শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি মেধার বিকাশ ঘটাবে, গবেষণায় মনোনিবেশ করবে এবং শিক্ষাসংক্রান্ত ন্যায্য দাবি উত্থাপন করবে। একই সঙ্গে সামাজিক ন্যায়বিচার, সুশাসন ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে ছাত্রসমাজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলো যদি লেজুড়বৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তবে তাদের সাংগঠনিক ও আর্থিক কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্ব নিরসনে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। তিনি বলেন, ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের নবাগত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হন। তিনি জানান, সংগঠনটি প্রতিবছর দিনটিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে।
বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক ও সাংবাদিক আলী আহমাদ মাবরুর। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ক্যাম্পাস সহিংসতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও গঠনমূলক উদ্যোগ জরুরি।



