
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এবং গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। তারা সতর্ক করে বলেন, জুলাই উপেক্ষা করা হলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের আয়োজনে ‘জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও গণভোটের রায় উপেক্ষা: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স। সঞ্চালনা করেন আদিবা রহমান রিফা এবং সূচনা বক্তব্য দেন আরিফুল ইসলাম আবির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সংস্কার মিশনের বৈঠকে বিএনপি সংস্কারের পরিবর্তে নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং ক্ষমতায় এসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাদ দিয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা—জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা—এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গড়িমসি করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি তাদের ঘোষিত ৩১ দফা থেকে সরে গেছে এবং জনমত উপেক্ষা করছে, যা রাষ্ট্রকে দুর্বল করে। তিনি দ্রুত সময়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ফাহিম মাশরুর বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জনমতের গুরুত্ব অপরিহার্য।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের উপদেষ্টা নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, নতুন ব্যাংক রেজুলেশনের মাধ্যমে লুটেরাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করছে।
তিনি বলেন, ক্ষমতা স্থায়ী নয় এবং সংসদে কার্যকর বিরোধী দল থাকা জরুরি। তাই বিরোধী দলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সূচনা বক্তব্যে সংগঠনের যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আবির বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে যে জনগণের অধিকার ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, আপনারা জুলাইয়ের বিরুদ্ধে গেলে আপনাদের পরিণতি হবে পূর্ববর্তী শাসকের মতো।
সংগঠনের সহসভাপতি আকিব হাসান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশসমূহ পুনর্বহাল এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ প্রিন্স বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। বিএনপি রাষ্ট্রে পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছে। মেধা ও যোগ্যতার বদলে পারিবারিক কোটায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহসহ বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ।



