
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইনগতভাবে যেহেতু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে, সেভাবেই তাদের দেখা হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়ায়। তাই সব দল ও মতের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
দলীয় কার্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নয়াপল্টনের এই কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিভিন্ন সময় গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর নেতৃত্বে দল একাধিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন ও ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তাঁদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁর নেতৃত্বে দল নতুনভাবে সংগঠিত হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে বিএনপি আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ বিষয়ে নির্ধারিত আইন ও বিধিমালা রয়েছে। সেসব সমন্বয় করে উপযুক্ত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা এবং গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। নারী আসনসহ কিছু বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয় প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দলটির কার্যক্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ—এ অবস্থান থেকেই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। আমরা চাই দেশে একটি সমতাভিত্তিক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠুক, যেখানে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।



