
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে স্বচ্ছ তদন্ত, অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন পরবর্তী সারাদেশে সহিংসতার প্রতিবাদে এগারো দলের বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরোয়ার এই দাবী করেন।
তিনি বলেন, ফলাফল সম্প্রচারের সময় হঠাৎ সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিরোধী দল, বিশেষ করে ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধিদের বক্তব্য বারবার উপেক্ষা করা জনমনে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার রহস্য জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে এবং যেসব আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এ জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো কোনো ধরনের বিলম্ব বা অজুহাত ছাড়াই দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিজয়ের নামে হামলা, হত্যা, সন্ত্রাস ও নির্যাতনের ঘটনা দেশের মানুষকে আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এসব ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি বলেও উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে ঐকমত্য ও অঙ্গীকার তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। জনগণের ত্যাগের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সেই প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করা হলে তা জাতি মেনে নেবে না বলেও সতর্ক করা হয়।
এছাড়া আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার, সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাও মামুনুল হক। তিনি বলেন, সারাদিন সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের পর সন্ধ্যার পর এগারো দলের নির্দিষ্ট নেতৃবৃন্দকে টার্গেট করে করে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে হারানো হয়েছে। এর সুষ্ঠ তদন্তেরও দাবি করেন তিনি।
এছাড়াও সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসিরউদ্দিনের পাটওয়ারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু-সহ এগারো দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।



