
ঢাকা-৫ আসনে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী ও দলটির নেতা হাজী ইব্রাহিম খলিল আপাতত দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
জানা যায়, ঢাকা-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ছিলেন ইব্রাহিম খলিল। তিনি স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। পরাজয়ের একদিন পরই দলের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
ইব্রাহিম খলিল তার পোস্টে লেখেন, ‘আপাতত (দলটি রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করা পর্যন্ত) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সকল কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম।’
দলটির অরাজনৈতিক ও অপরিপক্ব কর্মকাণ্ডের কারণেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ইঙ্গিত দেন।
এ দিকে বগুড়া থেকে নির্বাচন করা জামায়াত নেতা নূর মোহাম্মদ বলেন, জোটবদ্ধভাবে ঢাকা-৫ আসনটি ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। যুক্তি ছিল, ইব্রাহিম খলিল স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন এবং জামায়াতের প্রার্থী নতুন মুখ। সে কারণে জামায়াত বিষয়টি মেনে নিয়েছিল। তবে জোট ভেঙে যাওয়ায় আলাদা করে নির্বাচন করতে বাধ্য হয় জামায়াত।
তিনি জানান, আলাদা নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোহাম্মদ কামাল হোসেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট। ফলে ৯ হাজার ১৫০ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।
নূর মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘ইব্রাহিম খলিল ভাইয়ের মতো একজন জনপ্রতিনিধির অন্তত দ্বিতীয় স্থানে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেটিও হয়নি। তিনি হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১৪ হাজার ২০৬ ভোট। লীগের আমলে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শুধু ইসলামী আন্দোলন ছিল। সেই নির্বাচনে জামায়াতের ভোটেই তিনি নির্বাচিত হন। এটাই এবারের নির্বাচনে প্রমাণ হলো। ’



