জামায়াত আমির, ডা. শফিক
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন জামায়াত আমির।ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্যাতনের শিকার এক নারীকে দেখতে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের। তাঁর সঙ্গে নাহিদ ইসলামও যাওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন দুই নেতা। এ সময় তাঁরা সরাসরি গিয়ে খোঁজ নেওয়ার আশ্বাস দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালী-৬ আসনে নির্বাচিত এনসিপির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ ও জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার।

ইসহাক খন্দকার বলেন, আমিরে জামায়াত ভিডিও কলে কথা বলে নির্যাতিতাকে নিজের বোন আখ্যা দিয়েছেন এবং সোমবার তাঁকে দেখতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পৃথক কলে নাহিদ ইসলামও ওই নারীকে সমবেদনা জানান এবং দেখা করতে যাওয়ার কথা বলেন।

আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, হাতিয়ায় রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে এবং তাঁর দলের কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক নির্যাতনের ঘটনাও সেই প্রেক্ষাপটের অংশ। ভবিষ্যতে বিষয়টি সংসদে তোলার কথাও জানান তিনি।

এর আগে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সী এক নারী অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে মারধর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীকে বেঁধে রেখে আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি তাঁকে ধর্ষণ করেন। শনিবার বিকেলে তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানান জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।

তবে অভিযুক্ত আবদুর রহমান ভিডিও বার্তায় অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই রাতে তিনিই হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছেন। ধর্ষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টিএম মোশারেফ হোসেন বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।