
বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ আমাদের কবুল করলে, এই বাংলাদেশ থেকে আর কাউকে ব্যাংকের টাকা লুণ্ঠন করে নেতা হতে দেয়া হবে না। শেয়ার বাজার লুট এবং প্রজেক্ট থেকে চুরি-ডাকাতি করে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার করতে দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, যে ২৮ লাখ কোটি টাকা লুট হয়েছে, বিদেশে পাচার হয়েছে তা ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা করা হবে। এই টাকা দিয়ে যে এলাকা যত বেশি বঞ্চিত হয়েছে, যত বেশি নির্যাতিত হয়েছে, সেখান থেকে আমাদের উন্নয়নের যাত্রা শুরু হবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পাবলিক মাঠে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “চাঁদাবাজি আমরা করি না কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতি আমরা করি না কাউকে করতে দেব না। মামলা বাণিজ্যকে আমরা ঘৃণা করি। কাউকে এই সুযোগ দেয়া হবে না।”
গত বছরগুলোতে শাসকগোষ্ঠী ও কিছু রাজনৈতিক দল দেশবাসীকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দলীয় বাণিজ্য ও বিচারহীনতা ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশ বদলে দিয়ে একটি নতুন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। ১৩ তারিখ সূর্য উঠবে নতুন বাংলাদেশকে কাঁধে নিয়ে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ যদি তাদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন, তাহলে তাদের দুই হাতের দশ আঙুল থাকবে পরিচ্ছন্ন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতি করি না, কাউকে করতেও দেব না। মামলা বাণিজ্য আমরা ঘৃণা করি। কেউ মিথ্যা মামলা দিয়ে কারো ভবিষ্যৎ ধ্বংস করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্যাতনের ভিত্তিতেই বিচার হবে কেউ মামু-খালু দেখিয়ে পার পাবে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী অন্যায় করলে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাজ গঠনের দিকনির্দেশনা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজ গড়তে তিনটি বিষয় অপরিহার্য। তা হলো- উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার। সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি গণভোট এবং অন্যটি সাধারণ নির্বাচন।
এ সময় তিনি গণভোটের গুরুত্ব বুঝাতে বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘না’ মানে গোলামি। হ্যাঁ বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে, আর না বিজয়ী হলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।
অতীত ও বর্তমান রাজনীতির তুলনা টেনে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, যারা অতীতে সততার প্রমাণ দিতে পারেনি, তাদের ভোট চাওয়ার কোনো অধিকার নেই। যারা জনগণকে সম্মান দিয়েছে এবং যোগ্যতা দিয়ে সেই সম্মান ধরে রেখেছে, জনগণ তাদেরই নির্বাচিত করবে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্য, দখলদারিত্ব, ব্যাংক ডাকাতি ও ঋণখেলাপির রাজনীতি করে না।
১১ দলীয় ঐক্যজোটের এই শীর্ষ নেতা বলেন, জনগণ যদি তাদের সুযোগ দেয়, তাহলে আলাদা করে দাবি তুলতে হবে না। উন্নয়ন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া তাদের দায়িত্ব হবে।
তিনি বলেন, “আমার বাড়ি সারা বাংলাদেশ। আমাকে লোকেরা জিজ্ঞেস করেন আপনার ঠিকানা কোথায়, আমি বলি সাধারণ পরিবহন সমগ্র বাংলাদেশ। এইটা ট্রাকের পেছনে লেখা থাকে, আমি একটা ট্রাক। যে রাস্তায় যেখানে প্রয়োজন, সেখানে পৌঁছে যাওয়া আমদের দায়িত্ব।”
গণভোটে জামায়াতের আমির ‘হ্যা’-এর পক্ষে ভোট চান। ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাউফল উপজেলা জামায়েতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইসাহাকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী অ্যাডভোটেক মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্য নেতারা।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদের হাতে প্রতীকীভাবে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। একই সঙ্গে পটুয়াখালীর চারটি সংসদীয় আসনের জোটপ্রার্থীদের প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাউফল উপজেলা আমির মাওলানা মো. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদেক কায়েম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, পটুয়াখালী জেলা আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান, বরিশাল মহানগর আমির জহির উদ্দিন মো. বাবর, পটুয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম এবং পটুয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
নির্ধারিত সময়ের আগেই জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা বিপুল জনসমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে। শপাশের সড়ক, অলিগলি ও খোলা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মানুষের ঢলে। এ সময় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক জনসভা কাভার করেন।



