
টানটান উত্তেজনা। নানা গুজব-গুঞ্জন। ইতিহাসের এক বিশেষ মুহূর্ত পার করছে বাংলাদেশ। আর মাত্র ১১ দিন পর ভোট। এই সময়ে এমন পরিস্থিতি একেবারে নজিরবিহীন নয়।
একসময়ের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র বিএনপি ও জামায়াত এখন মুখোমুখি। তারেক রহমান ও শফিকুর রহমান ভোটের প্রচারণায় ছুটছেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। একে অন্যকে ছেড়ে কথা বলছেন না। প্রশ্ন তুলছেন, সমালোচনা করছেন। রাজনীতিতে অবশ্য এটি স্বাভাবিকই। কিন্তু এরই মধ্যে মর্মান্তিক বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। ভোট মাঠে গড়ানোর আগেই ঘাতকের বুলেটে প্রাণ হারান শরীফ ওসমান হাদি। এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো দেশ। কিন্তু শ্যুটাররা এখনও অধরা। বলা হচ্ছে, তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন।
সর্বশেষ শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন এক জামায়াত নেতা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ নির্বাচনে জামায়াতের নারী কর্মীদের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন তারাও। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে নারী সমাবেশের ডাক দেওয়া হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। শেরপুরে দলের উপজেলা পর্যায়ের নেতা নিহত হওয়ার পরও জামায়াত তীব্র কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দুটি বিষয় উল্লেখ করেছে। এক, জামায়াতের বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান বরাবরই অহিংস উপায়ে পরিস্থিতি মোকাবেলার পক্ষে। দুই, জামায়াতের কাছে বার্তা রয়েছে সংহত থাকার—না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কেউ কেউ বলে আসছেন যে নির্বাচন হবে না। তবে সরকার সবসময়ই নির্বাচনের ব্যাপারে তার দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করে এসেছে। আগামী নির্বাচনের জন্য সামনের কয়েকটি দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।



