
দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজ জন্মভূমি বগুড়ায় ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুনেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তারেক রহমান বলেন, প্রায় দুই দশক পর আল্লাহ তাঁকে আবার নিজের মাটিতে ফিরে আসার তৌফিক দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নিজের ঘরে ফিরে কী বলবো, তা নিজেও বুঝে উঠতে পারছি না।’

দীর্ঘদিন পর বগুড়াবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ১৯ বছর আগে দেশে থাকার সময় বগুড়ার মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন। শতভাগ সফল না হলেও সরকারের আইন–কানুনের ভেতরে থেকে যতটুকু সম্ভব ছিল, আন্তরিকভাবে সে চেষ্টা করা হয়েছিল।
বগুড়ার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বনানী–মাটিডালি সড়ক প্রশস্তকরণ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ স্থাপন, গ্যাস সংযোগসহ নানামুখী অবকাঠামোগত উন্নয়ন মানুষের চাহিদার ভিত্তিতেই বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বগুড়াকে তিনি সবসময় একটি মডেল জেলা হিসেবে বিবেচনা করতেন। কারণ, দেশের বাকি ৬৩টি জেলাকে কীভাবে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনা যায়, তার বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়েছিল বগুড়ায়। মানুষের মৌলিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ধাপে ধাপে জেলার অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ওই সময়ে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনেই দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশি উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। সে কারণেই তিনি বগুড়াকে নিজের কাছে মডেল জেলা হিসেবে দেখেন।
তিনি আরও বলেন, সে সময় বগুড়ায় এমন অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে মানুষের অধিকাংশ প্রয়োজন স্থানীয়ভাবেই পূরণ হতো। চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা অন্যান্য সেবার জন্য মানুষকে খুব বেশি ঢাকামুখী হতে হতো না।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি নির্ধারণ করবে দেশে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না। তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য জনগণকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে বগুড়ার সংসদ সদস্য ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে তিনি অনুপস্থিত থাকলেও একজন এলাকার সন্তান ও ভাই হিসেবে বগুড়াবাসীর পাশে থাকতে চান তিনি।

গত ১৫ বছরের বঞ্চনার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, শুধু বগুড়াই নয়, এই সময়ে প্রকৃত অর্থে পুরো বাংলাদেশই বঞ্চিত ছিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আল্লাহ যদি বিএনপিকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে বগুড়ার পাশাপাশি সমগ্র দেশকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হবে।

সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আলতাফুনেছা খেলার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে বগুড়াবাসীর মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান সাতজন প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন।



