
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেটি ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ। আর ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টের যোদ্ধারা সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী ফুলতলী (ডিগবাজি) মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। জনসভা শুরু হয় রাত পৌনে ১১টার দিকে।
তারেক রহমান বলেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনের সময় ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিএনপির ৪১৯ জন নেতা-কর্মীসহ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ত্যাগ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিএনপির অতীত শাসনামলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি সফলভাবে দেশ পরিচালনা করেছে। নারীদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছে এবং কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বিএনপি জানে—কীভাবে দুর্নীতি দমন করতে হয়, কীভাবে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হয় এবং কীভাবে মানুষের জীবন ও সম্পদ নিরাপদ রাখতে হয়।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ নিয়ে অন্য দলগুলো নানা সমালোচনা করেছে। তারা যা খুশি বলতে পারে। এতে বিএনপির কিছু যায় আসে না। জনগণ যদি ধানের শীষে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়, তাহলে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপির লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে জনগণের জীবনমান উন্নত করা। মানুষ যদি এখন ১০ শতাংশ ভালো থাকে, আমরা সেটিকে ২০ শতাংশে নিতে চাই। ধীরে ধীরে ১০০ শতাংশে পৌঁছানো হবে। তবে ২০ শতাংশ এগোতেও পারলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী সমন্বয়ক আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা-৬ আসনের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা-৭ আসনের প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান ওয়াসিম, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।



