
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাঁদের করা মামলাগুলোতে শত শত আসামি নেই। তিনি বলেন, আমরা ছিলাম সবচেয়ে বড় মজলুম। কিন্তু আমরা ওই রকম মামলা করিনি। আমাদের করা মামলায় তো শত শত আসামি নেই।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত ১০ দলীয় জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে তাঁদের নেতাকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সবার আছে এবং আদালতে আশ্রয় নেওয়া বৈধ। তবে কোনো নিরীহ মানুষকে যেন মামলায় জড়ানো না হয়।
তাঁর ভাষায়, ‘সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া, যে অপরাধ করেছে, তাকে ছাড়া কাউকে মামলায় আসামি করা যাবে না।’
তিনি বলেন, জামায়াত হাজার হাজার মামলা করেনি। যে কটি মামলা করা হয়েছে, তার মধ্যে আটটি মামলায় মাত্র একজন করে আসামি রয়েছে। কারণ, ওই ঘটনাগুলোতে দ্বিতীয় কোনো দোষী ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। তিনি দাবি করেন, যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে কোনো ধরনের চাঁদা তোলা হয়নি। কাউকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই না কোনো নিরীহ, নিরপরাধ মানুষ প্রতিহিংসা কিংবা লোভ-লালসার শিকার হয়ে একদিনের জন্যও জেলের ভাত খাক।
নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, তাঁরা সাড়ে ১৫ বছর কারাবন্দী ছিলেন। অপরাধ না করেও যারা কারাগারে যায়, তাদের মানসিক অবস্থার কষ্ট তাঁরা নিজেরা অনুভব করেছেন। এ কারণে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা নিজেরাই মজলুম হয়েছি, আমরা চাই এই দেশে আর কেউ মজলুম না হোক।
রংপুরের মানুষের প্রশংসা করে শফিকুর রহমান বলেন, এখানকার মানুষ শিক্ষিত, ভদ্র এবং অল্পে তুষ্ট। তবে তাঁর অভিযোগ, এই এলাকাতেও চাঁদাবাজি, বিভিন্ন স্ট্যান্ড দখল ও মামলা বাণিজ্য হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আশা ছিল ৫ আগস্টের পর সবাই অতীত থেকে শিক্ষা নেবে। জনগণের সম্পদ, ইজ্জত ও জীবনের দিকে কেউ আর হাত বাড়াবে না। কিন্তু সেই আশা কি পূরণ হয়েছে?’
সমাবেশ শেষে রংপুরের ছয়টি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেন জামায়াতের আমির। এ সময় তিনি অন্যায়-অবিচার, ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।



