
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছরে সামগ্রিক অর্জনের তুলনায় ক্ষতির পরিমাণই বেশি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, এই দীর্ঘ সময়ে দেশ ধীরে ধীরে গভীর সংকটের দিকে এগিয়েছে এবং সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে উত্তরবঙ্গে দুদিনের সফরে যাওয়ার আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে কিছু অর্জন যে হয়নি, তা তিনি অস্বীকার করেন না। তবে সামগ্রিক চিত্র বিবেচনায় নিলে লাভের তুলনায় ক্ষতিই বেশি। তাঁর অভিযোগ, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রকে বিপুল অঙ্কের ঋণের ভারে জর্জরিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এমন বাস্তবতায় আগামীতে যারা সরকার গঠন করবে, তাদের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট এখনো কাটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজ তীব্র বেকারত্বে ভুগছে, কর্মক্ষেত্রে কর্মীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। পাশাপাশি চলাফেরা ও কর্মস্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সমাজ ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জাতির উদ্দেশে দুটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক রাজনীতি পরিহার করে নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণ যাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, তাদের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বা ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের কোনো পর্যায়ের কেউ যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেন জামায়াত আমির।
এ সময় তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।



