তারেক রহমান, বিএনপি, জামায়াত
মিয়া গোলাম পরওয়ার।ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমান বিলেত থেকে ফিরে বড় মুফতি হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আরাফাত নগর এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, কোন একজন মুসলমান যিনি আল্লাহকে বিশ্বাস করেন, রাসূলকে (সা.) বিশ্বাস করেন, পরকালে বিশ্বাসী কোনো মানুষকে একজন মুসলমানের কাফের বলা অথবা কুফুরি বলা জায়েজ না। হাদিসে আল্লাহর রাসূল (সা.) নিষেধ করেছেন। হাদিসে এভাবে বলা হয়েছে, কেউ যদি কারও জন্য এটা বলে তাহলে যে বলল তার দিকেই এটা ফিরে আসবে, তার জন্য এটা প্রযোজ্য হবে। উনি (তারেক রহমান) এটা বড় অপরাধ করেছেন। এজন্য আমরা দুঃখ করে বলছি যে, উনি বিদেশে গেছেন লণ্ডনে ছিলেন লেখাপড়া করেছেন। পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটি হয়তো আছে। কিন্তু উনি তো বড় মুফতি হয়ে গেছেন। 

তিনি বলেন, উনি (তারেক রহমান) বিলেত থেকে ফিরে মুফতির মতো ফতোয়া দিয়ে দিচ্ছেন কে মুশরিক আর কে কাফের। এটা তার কোনো অধিকার নেই। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এ কথা বলা চরম শিষ্টাচারের লঙ্ঘন হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ইসলাম সম্পর্কে যারা পড়াশোনা করেছেন যারা স্কলার, পণ্ডিত, যারা ফকিহ বা মুফতি তারা ইসলামের কোনো বিষয়ে ভুল ত্রুটি নিয়ে কথা বলতে পারেন। আর কেউ এসব বিষয়ে কথা বলতে পারেন না।  

জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লন্ডনের ফতোয়ায় আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জামায়াতকে শিরক বা কুফর করার কথা বলছে বিএনপি নেতারা। ইসলামকে জানে না বলেই তারা এমন কথা বলছেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তারা দাবি করে আমরা না কি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করি। এটা মিথ্যা প্রচারণা। তারা বলে, আমরা না কি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি।
 
তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি জামায়াত করে না, ধর্ম মেনে চলে। যারা ১২ মাস ধর্ম মানে না, ভোটের সময় মাথায় টুপি পরে, ধর্মীয় লেবাস পরে তারাই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। লন্ডনের ফতোয়ায় তারা জামায়াতকে বলে শিরক করছে বা কুফর করছে, ইসলাম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সীমিত বলেই তারা এমন কথা বলছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তারা এমন কথা বলছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতের কেউ ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে অপরাধ করেনি। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। জামায়াতের তখনকার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু জামায়াতের কেউ কোনো অপরাধের সাথে জড়িত ছিল না। জামায়াতের বিরুদ্ধে যদি এতো ক্ষোভ তাহলে জামায়াতের সাথে কেন বিএনপি জোট করেছিল, তার জবাব দিয়ে তারপর ৭১ নিয়ে প্রশ্ন করার পরামর্শ দেন তিনি।
 
বক্তব্যে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, সৎ লোক নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দমন-পীড়ন বন্ধ হবে বলেই কিছু মহল জামায়াতের বিরোধিতা করছে।
 
একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামায়াতকে কুফুরি আখ্যা দেয়া হয়েছে, যা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য।
 
মিয়া গোলাম পরওয়ার ভোটারদের বলেন, ভোট কেনার জন্য দেয়া কালো টাকা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না এবং ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। ভোট কেনার উদ্দেশ্যে দেয়া অর্থ সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরামর্শও দেন তিনি।

জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য। ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে। পরে জামায়ার সেক্রেটারি স্থানীয় একটি মহিলা সমাবেশে যোগ দেন।

এমকে/আরটিএনএন