বিএনপি, তারেক রহমান
বিএনপির নির্বাচনী প্রচারের নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান।ছবি: আরটিএনএন

২০০১ সালেও বিএনপির নির্বাচনী কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তারেক রহমান। তবে সেবার তিনি প্রধান চরিত্র ছিলেন না। বিএনপি এবং চারদলীয় জোটের প্রচারণার কেন্দ্রে ও নেতৃত্বে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে পুরো রাজনীতিতে ফিরেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ভোটের প্রচার। আর এবার বিএনপির নির্বাচনী অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান। ঐতিহ্য মেনে সিলেট থেকেই ভোটের প্রচার শুরু করেছেন তিনি। যদিও সেখানে শ্বশুরবাড়িতেও দীর্ঘদিন পর আতিথেয়তা নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

সিলেট, মৌলভীবাজার এবং নরসিংদীতে দেওয়া সমাবেশে তারেক রহমান নাম না নিয়েই জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত আসছে। বিএনপি প্রধান তার নির্বাচনী প্রচারণার টোন সম্ভবত ঠিক করে নিয়েছেন।

মৌলভীবাজারে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান বলেন, একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা-বোনদের বলছে—তাদের ভোট দিলে বেহেশতের টিকিট পাওয়া যাবে। বেহেশত ও দোজখ দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এ ধরনের কথা বলে তারা শিরক করছে।

নরসিংদীর সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, “ঢাকা শহরে কয়েকবার ভূমিকম্প হয়েছে। নরসিংদীতেও হয়েছে কি না”—এমন প্রশ্নে উপস্থিত জনতা সমস্বরে জানান, নরসিংদীই ছিল ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। এরপর তারেক রহমান বলেন, এখন যদি আমরা বলি—এদের এই সব শিরক, এই মিথ্যাচার আর মুনাফেকির জন্য আল্লাহ আমাদের সতর্ক করছেন, হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন—এগুলো বন্ধ না করলে শাস্তি আসবে। আমরা যদি এটা বলি, তাহলে কোথায় যাবে তারা?

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস সংঘাতময়। অতীতে রাজনৈতিক হানাহানিতে বহু প্রাণহানি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ৫ আগস্টের পর নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নতুন রাজনীতির আশায় মানুষ। সেখানে সংঘাত কারও কাম্য নয়।

কথার পিঠে কথার রাজনীতি সারা দুনিয়াতেই চলে। তবে দেশের একজন শীর্ষ রাজনীতিবিদের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। বিশেষত ভূমিকম্প নিয়ে তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে সামাজিক মাধ্যমে। বহু মানুষ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বলছেন, একজন শীর্ষ রাজনীতিবিদের এমন কথা বলা উচিত নয়।