জামায়াত আমির, ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত
ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘পলিসি সামিট’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ডা. শফিকুর রহমান।ছবি: আরটিএনএন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন বাংলাদেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির গ্যারান্টি দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

জামায়াত আমির বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বহু প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মত ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা দমন করা হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী এবং জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে থাকার শর্তে যেকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আগামীর অগ্রযাত্রায় একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত জামায়াতে ইসলামী। তিনি একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও সহযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘সারা বিশ্বের মানুষ জানে, ২০২৪ সালে আমরা নিজেদের মুক্ত করেছি। আগস্টে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, অনেকেই নিহত হয়েছেন।’ তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চেষ্টা করেছে।

ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা, যা বিশ্বপরিসরে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। অর্থনীতিতেও বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করা হবে এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নারী ও তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মোট আয়ে নারীদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সম্ভাবনাময় তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগাতে জামায়াতে ইসলামী আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

শিল্পকারখানা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সব জাতিগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন ডা. শফিকুর রহমান।

এমকে/আরটিএনএন