বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ও সিউলের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, যেখানে ২০২৫ সালে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি রেকর্ড ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, সেখানে দ্রুত বর্ধনশীল এই খাতে অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের তুলনায় দেশটির এই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রায় ২২ দশমিক ২ শতাংশ, যার পেছনে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বিস্তার বড় ভূমিকা রেখেছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ খুঁজছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল জানিয়েছেন, উচ্চ শ্রম ব্যয়ের কারণে কোরিয়ার অনেক বড় প্রযুক্তি কোম্পানি উৎপাদন ও কিছু শিল্প কার্যক্রম ধীরে ধীরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার দিকে সরিয়ে নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো দেশ ইতোমধ্যে কিছু উৎপাদন স্থানান্তরের সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশও এই ধারায় একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশের বড় সুবিধা হলো দক্ষ ও শিক্ষিত তরুণ জনশক্তি, বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার ও আইটি পেশাজীবীদের একটি ক্রমবর্ধমান পুল। এই মানবসম্পদ কোরিয়ার প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং আউটসোর্সিং ও সাপ্লাই চেইন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। এ বিষয়টি ইতোমধ্যে কোরিয়ান অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে শুধু বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নয়, প্রতিরক্ষা খাতেও ঢাকা ও সিউলের মধ্যে সহযোগিতার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী লিম সাংও বলেছেন, দুই দেশ সামরিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তিনি মনে করেন, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করা সম্ভব।

এছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলাসহ বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রেও যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। কোরিয়ার মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অবস্থান ভবিষ্যতে এই অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

সব মিলিয়ে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে ঢাকা–সিউল সম্পর্ক নতুন এক কৌশলগত সহযোগিতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।