পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নবম ভারত মহাসাগরীয় কনফারেন্সে (আইওসি) বক্তব্য দেয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এতটাই গভীর যে, সংঘাত থেমে গেলেও এর অভিঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হবে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নেয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বর্তমানে এক অস্থির ও উত্তাল সময় অতিক্রম করছে। জ্বালানি সংকট ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা, একে অপরের প্রয়োজন অনুধাবন এবং যৌথ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসা জরুরি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে। কারণ, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে, যা দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, উন্নয়ন অগ্রগতি ধরে রাখা এবং উদ্ভূত সংকটগুলো কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার কৌশল নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি।

সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সুপার সোর্সিং হাব’ গড়ে তোলার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করা। পাশাপাশি দেশের জেলা ও উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে স্থানীয় উদ্ভাবনকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ভারত মহাসাগরের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নয়নের একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই তরুণ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বিকাশ এবং নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের সব খাতে উদ্ভাবন বাড়াতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে নেতৃত্বে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

বক্তব্যের শেষদিকে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সহযোগিতামূলক কাঠামো ও সমন্বয় পদ্ধতিগুলো নতুন বাস্তবতার আলোকে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের পথ আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব হবে।