স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাসিস্ট সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে এনসিপির এমপি আখতার হোসেনের নোটিশের জবাবে এসব কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। যদিও গত ২৯ মার্চ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন গত ৮ বছর দেশে হামের টিকা দেওয়া হয়নি।

নোটিশে আখতার হোসেন বলেন, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫-এর বেশি, নিশ্চিত মৃত্যু ২০ জন। হাজার হাজার শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন গত ৮ বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এটা সঠিক তথ্য কিনা? হামের চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন একেবারেই নেই। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালসহ বড় বড় হাসপাতালেও নেই। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলের কথা বেশি সামনে এসেছে। হাসপাতালে আইসিইউ ও এনআইসিইউ নেই।

আখতার বলেন বলেন, শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়স থেকে। কিন্তু এখন ছয়মাস বয়সী শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। রোগতত্ত্ব বিশারদরা কী কারণে এটা চিহ্নিত করতে পারলেন না? এ নিয়ে তদন্ত করা উচিত।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাম-রুবেলার বিশেষ টিকার কর্মসূচি সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে হয়। এরপর সাড়ে পাঁচবছর বিশেষ কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে। যা প্রতি চার বছর পরপর হওয়ার কথা।

তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলোর সম্পূর্ণ ভুল ব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতায় এমন হয়েছে। তাদের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। ফলে সদ্যজাতসহ অনেক শিশু হামের টিকা আওতার বাইরে থেকে যায়, যারা এখন আক্রান্ত হচ্ছে। টিকা কেনা ও সংগ্রহে পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তে মজুত সংকট দেখা দিয়েছে। হামসহ আরও ছয় ধরণের টিকার অভাব দেখা দিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে অবশিষ্ট এলাকায় কর্মসূচি শুরু হবে। একই সঙ্গে রোববার থেকে দেশে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। 

হাসপাতালে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরও ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পাশাপাশি আইসিডিডিআর-বি এর মাধ্যমে ৩০০ টাকা ব্যয়ে উদ্ভাবিত নতুন অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহার করে ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাম মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। 

সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মাঠ পর্যায়ের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বলেন, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও সাধারণ মানুষ হাসপাতালে আইসোলেশন বা আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছে না। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ অব্যয়িত থেকে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ১১ হাজার কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হয়নি।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনাকালীন সময়ের অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।