ফেসবুক, পর্নোগ্রাফি ছড়ানো,  হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল, প্রতারণা, জিজ্ঞাসাবাদ, সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি), সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ,
ভুক্তভোগীকে মান সম্মান ক্ষুণ্ণ করার ব্ল্যাকমেইলিং ও ক্রমাগত চাপে রেখে ধাপে ধাপে অর্থ আদায়।ছবি: আরটিএনএন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে আল আসিফ মাহমুদ প্রিন্স (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।

গ্রেপ্তার আল আসিফ মাহমুদ প্রিন্স দিনাজপুরের বিরল থানার মির্জানগর গ্রামের মো. আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী।

এক ভুক্তভোগীর করা মামলার ভিত্তিতে বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের একটি আভিযানিক দল। এ সময় প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত আলামত ও ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

সিআইডি জানায়, একটি চক্র ফেসবুকে নির্দিষ্ট আইডিকে টার্গেট করে সুকৌশলে সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে সেখান থেকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের উপাদান সংগ্রহ করত। পরে ভুক্তভোগীর মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার ভয় দেখিয়ে তাকে ক্রমাগত চাপের মধ্যে রেখে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করা হতো।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভোগীকে নক দিয়ে তার ও তার স্বামীর ব্যক্তিগত ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ওই বছরের ১৭ মার্চ আশুলিয়া থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে আল আসিফ মাহমুদ প্রিন্সকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসিফ মাহমুদ প্রিন্স ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ এবং সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও কোনো ডিভাইস বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংরক্ষণ বা শেয়ার না করার অনুরোধ করা হয়েছে।