
দুর্নীতির অভিযোগের মুখে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) তার পদত্যাগপত্র বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলে তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।
এর আগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে আবেদন করেন শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলায় বিচারপতি রেজাউল হাসান পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। একটি মামলায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী উপস্থিত না থাকলেও রায়ে তার যুক্তিতর্ক উল্লেখ করা হয়, যা পরে আপিল বিভাগ বাতিল করে। অন্য মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে পক্ষভুক্ত না করেই তার ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল করা হয়, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের আবেদন জানানো হয় এবং প্রমাণিত হলে সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছিল সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে। ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর বনানী ইউ লুপে ট্রাফিক সার্জেন্ট মহুয়ার বাবা মনোরঞ্জন হাজমকে গাড়ি চাপা দিয়েছিলেন বিচারপতি রেজাউল হাসানের ছেলে। সে সময় এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পরও মামলা নেয়নি পুলিশ।
অভিযোগ ছিল, বিচারপতির প্রভাব খাটিয়ে সে সময় থানা পুলিশকে ফোন করে ছেলেকে আসামি না করতে চাপ দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি নিয়ে নেন। বিচারপতি এমআর হাসান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থাকাকালীন কোম্পানি বেঞ্চের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে প্রধান বিচারপতির কাছে।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রাথমিকভাবে তার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তাকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। তার প্রেক্ষিতেই তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করেন।



