স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ হত্যার বিচারের দাবির প্রসঙ্গে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজপথে অভ্যুত্থানকারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, গণহত্যা করেছে, তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, কেউ কেউ আহত হয়েছে, কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করছে যে, সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে কিনা এবং তারা বিভিন্ন দাবি করছে। আমি সেই বিষয়ে আরেকটি অনুষ্ঠানে বলেছিলাম তা হলে মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করা হবে, রাজাকার হত্যার বিরুদ্ধে। গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে অভ্যুত্থানকারী, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা করেছে, তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, কেউ কেউ আহত হয়েছে, সেটা যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে। সেখানে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা এই অধ্যাদেশটি এখানে গ্রহণ করার জন্য সবাই সর্বসম্মত হয়েছি। 

তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি দেওয়ার বিষয়ে আইনি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি। ইনডেমনিটি দেওয়ার এই অঙ্গীকারের পরিপ্রেক্ষিতে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ নামে একটা অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশ এখানে মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, এই অধ্যাদেশগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আমরা আলোচনা করেছি। আমরা এই জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ পার্লামেন্টে বিল আকার উপস্থাপন করে পাস করার বিষয়ে একমত হয়েছি।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুই একটা মামলা এবং তার সহযোগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুই একটা মামলার রায়ও ঘোষিত হয়েছে। এবং সেই রায়গুলো পুরো জাতি টেলিভিশনের মাধ্যমে লাইভ টেলিকাস্ট করা হয়েছে। আপনারা দেখেছেন। আশা করি অন্যান্য মামলাতেও ইনশাল্লাহ আইসিটি কোর্ট হোক বা অন্যান্য আদালত হোক আদালত স্বাধীনভাবে তারা করবে। সেখানে আমরা কোনো ইন্টারফেয়ার করবো না। করতে চাই না। এটাই বর্তমান সুশাসনের আইনের শাসনের ব্যবস্থা। এদেশের সব গুম খুন হত্যাকাণ্ড এবং গণহত্যার বিচার হবেই।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় পুলিশ বাহিনীকে সুশৃঙ্খল বাহিনীতে রূপান্তরের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সারাদেশে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, মধ্যম মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা এবং স্বল্প মেয়াদি বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশ সদস্যদের দেশ ও বিদেশে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। 

‘এ ছাড়া, আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সংযোজন অব্যাহত আছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত প্রক্রিয়া এবং প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অপরাধ শনাক্তকরণ ও তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সিডিএমএস-এর মাধ্যমে রেকর্ড করা মামলা/অপরাধ/অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে যা মামলা তদন্ত কার্যক্রম ও তদন্ত মনিটরিংয়ে সহায়তা করছে। থানায় অনলাইন জিডি ও অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স চালু করা হয়েছে।