
মানিকগঞ্জে কালিগঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মস্তকবিহীন এক ব্যক্তির লাশের পরিচয় শনাক্তসহ মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর থানাধীন কালিগঙ্গা নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পিবিআই মানিকগঞ্জ জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে লাশটির পরিচয় শনাক্ত করে এবং ঘটনার বিষয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে।
পরবর্তীতে জানা যায়, ভিকটিম গত ২৪ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিচয় শনাক্তের পর ভিকটিমের ভাই মো. আরিফ মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই-এর তফসিলভুক্ত হওয়ায় ২৭ মার্চ পিবিআই মানিকগঞ্জ জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আবু কাউছার।
তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ মার্চ বিকেল ২টা ৫ মিনিটে ঢাকার ধামরাই থানার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে প্রধান সন্দেহভাজন রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আরমান হোসেন ও সজিবকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভিকটিমের সঙ্গে এক আসামির পূর্বপরিচিতি ও বন্ধুত্ব ছিল। ঘটনার দিন পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের মাথা ও দেহ আলাদা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা।
আসামিদের দেখানো মতে ভিকটিমের চুরি হওয়া অটোরিকশা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য ২৮ মার্চ তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এদিকে, ভিকটিমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।



