
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আগামী রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে তিনি এই ঘোষণা দেন।
এর আগে সংসদের কার্যসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানান স্পিকার। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’।
স্পিকার একাধিকবার সদস্যদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। তবে স্লোগান অব্যাহত থাকায় একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। ভাষণে তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি ও তাদের মিত্রদের অভিনন্দন জানান। শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় সরকারি বেঞ্চের সদস্যদের টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়।
সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, জুলাইয়ের সহিংসতার সময় রাষ্ট্রপতি কার্যকর ভূমিকা নেননি। তার ভাষায়, ‘সে সময় তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী ছিলেন। তাই এই সংসদে বক্তব্য দেওয়ার নৈতিক অধিকার তার নেই।’
রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে স্পিকার অধিবেশন আগামী রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।



