
আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার এই দিবস পালন করা হয়। চলতি বছরের প্রতিপাদ্য— ‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণিরে’।
দিবসটি উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএমইউ)বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সচেতনতা বৃদ্ধির নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এদিকে বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বিনা মূল্যে চিকিৎসা পরামর্শের জন্য ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। এ ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের বিনা মূল্যে পরামর্শ দেবেন।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে এ রোগে ভুগছেন বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য, অসচেতনতা, চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, নেফ্রাইটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার, জন্মগত ও বংশগত কিডনি রোগ, মূত্রতন্ত্রের প্রদাহ এবং পাথরজনিত সমস্যাও কিডনি রোগের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার কিডনি রোগী ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এছাড়া বছরে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল হয়ে যাচ্ছে। নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বা চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগের অবস্থান অষ্টম। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০৪০ সালের মধ্যে এটি মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থানে উঠে আসতে পারে—যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।



