
ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আজ ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আজকের মধ্যেই এই জ্বালানি তেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার জরুরিভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে ডিজেল পাঠানোর পাম্পিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল সরাসরি বাংলাদেশে প্রবেশ করবে, ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থায় যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
কর্মকর্তারা জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানির ফলে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। একই সঙ্গে সময়ও কম লাগে, যা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্থিতিশীল করে। সড়ক বা নৌপথে জ্বালানি পরিবহনের তুলনায় পাইপলাইন ব্যবস্থাকে অধিক নিরাপদ ও দ্রুততর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, গত রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে পাইপলাইন ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করেন।
বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান চালানের পাশাপাশি শিগগিরই ভারত থেকে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের আরেকটি চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব চালান পর্যায়ক্রমে দেশে এসে পৌঁছালে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত রাখা এবং কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত জ্বালানি আমদানি চালু থাকলে ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে।



