
অমর একুশে বইমেলা চলবে আর ছয় দিন। ইতোমধ্যে মেলার সব স্টল সাজানো থেকে শুরু করে বই বিক্রিও জমজমাট হয়ে উঠেছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হলেও রমজান ও অন্যান্য কারণে মেলা জমে উঠতে কিছুটা সময় লেগেছে প্রকাশক ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের।
সোমবার (৯ মার্চ) মেলার ১২তম দিনে এসে ছুটির দিন না হলেও ভালো সাড়া পেয়েছেন বিক্রেতারা। স্টলগুলোতে দেখা গেছে তরুণ-তরুণীদের ভিড়। জনপ্রিয় প্রায় সব স্টলেই বইপ্রেমীদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো, যা মেলার প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে। তবে শিশু প্রহরে তেমন ভিড় লক্ষ করা যায়নি।
প্রতিদিনের ন্যায় আজও বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রে বেশ কিছু বই জমা পড়েছে। বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী আজ নতুন বই জমা পড়েছে ১৬৩টি, যা অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি।
এছাড়াও বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় “শহীদুল্লা কায়সার” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিবলী আজাদ। আলোচনায় অংশ নেন প্রশান্ত মৃধা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
শিবলী আজাদ বলেন, পূর্ববাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিক শহীদুল্লা কায়সার। বামপন্থী রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও লেখকজীবন তাঁর খ্যাতির মূল কারণ হলেও স্বাধীনতার প্রাক্কালে তাঁর শাহাদাত তাঁকে দিয়েছে অনন্য মর্যাদা। রোজনামচা, ভ্রমণকাহিনি ও উপন্যাস মিলিয়ে নয়টি পূর্ণাঙ্গ এবং একটি অসমাপ্ত গ্রন্থের লেখক শহীদুল্লা কায়সার মূলত একজন প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক হিসেবেই বেশি পরিচিত।
প্রশান্ত মৃধা বলেন, শহীদুল্লা কায়সারের সৃষ্টিকর্মকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার সুযোগ রয়েছে। সমকালীন রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাই তার উপন্যাসের পটভূমি নির্মাণ করেছে। এ কারণে অনেক সময় তাঁর রাজনৈতিক সত্তা সাহিত্যিক সত্তাকে অতিক্রম করে গেছে।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, শহীদুল্লা কায়সার বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে অন্যতম প্রধান চরিত্র। তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। তার উপন্যাসগুলোকে যদি জাতীয় চেতনার দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠ করা হয়, তাহলে নিশ্চয়ই অধিকতর সুফল পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে “লেখক বলছি” অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন অনুবাদক ফয়েজ আলম ও জাভেদ হুসেন।
বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীরা মনোজ্ঞ পরিবেশনা উপহার দেন।
আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে “স্মরণ : সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশ নেবেন হরিশংকর জলদাস। সভাপতিত্ব করবেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।



