
প্রাচ্যের কবি ও মুসলিম জাতীয়তাবাদী দার্শনিক আল্লামা ইকবাল-এর ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সৈয়দ রেজা মীরমোহাম্মদী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। ‘সার্বভৌম উম্মাহ: আগ্রাসন মোকাবিলায় আল্লামা ইকবালের (রহ.) ঐক্যের দর্শন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ রেজা মীরমোহাম্মদী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী চলমান সংঘাতে ইরানের পক্ষে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট শিগগিরই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে ইরান এগিয়ে রয়েছে এবং এ বিজয় মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে। তার মতে, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য জোরদার হলে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে তিনি আল্লামা ইকবাল-এর চিন্তা-দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ইকবালের দর্শন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এক শতাব্দী আগেই ইকবাল মুসলিম বিশ্বের নানা চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তার মতে, মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য, আত্মপরিচয় ও কুরআনভিত্তিক জীবনদর্শন প্রতিষ্ঠার ওপরই ইকবালের চিন্তার মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে।
পাশ্চাত্য সমাজ সম্পর্কে ইকবালের গভীর উপলব্ধির কথা তুলে ধরে ইরানি এই কূটনীতিক বলেন, ধর্মহীনতা, নাস্তিকতা ও সেক্যুলারিজমকে আধুনিক মানব সভ্যতার অন্যতম সংকট হিসেবে ইকবাল চিহ্নিত করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে ইকবাল চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও বড় পরিসরে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় উপস্থাপিত ধারণাপত্রে খোমেনী ইহসান মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি সার্বভৌম ও সমন্বিত শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি সামরিক ও অর্থনৈতিক ঐক্য জোরদারের প্রস্তাব দিয়ে পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, সৌদি আরব, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকে নিয়ে একটি প্রতিরক্ষা জোট গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেন। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন, মিসাইল প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত জোট, একক মুদ্রা চালু, ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রবর্তন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। এছাড়া শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক মান অর্জনের লক্ষ্যে মুসলিম বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমীর চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার খান-এর সভাপতিত্বে এবং গালীব ইহসান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. আব্দুল্লাহ আল ইউসুফ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন এবং আল্লামা ইকবালের চিন্তা-দর্শনের আলোকে সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।



