
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু আজ। চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে একযোগে সারাদেশের সব কেন্দ্রে এই পরীক্ষা শুরু হবে।
এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি, যা গত বছরের (১৯ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।
সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় সাড়ে চার লাখ নিবন্ধিত শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।
রুটিন অনুযায়ী, বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিটি বিষয়ে প্রথমে বহুনির্বাচনি (MCQ) এবং পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (CQ) অংশের পরীক্ষা নেওয়া হবে (আইসিটি ব্যতীত)। দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।বহুনির্বাচনি (MCQ) সময় ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল(CQ) সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বোর্ড ১৪টি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। প্রধান নির্দেশনাগুলো হলো—পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষাকক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে (কেন্দ্রে প্রবেশ সাড়ে ৮টার মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে)। প্রবেশপত্র পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৭ দিন আগে সংগ্রহ করতে হবে। উত্তরপত্রের OMR ফরমে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। প্রতিটি অংশে (MCQ, CQ ও ব্যবহারিক) আলাদাভাবে পাস করতে হবে। শুধুমাত্র নিবন্ধনপত্রে উল্লেখিত বিষয়েই পরীক্ষা দেওয়া যাবে। অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। কেন্দ্রসচিব ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার ফল প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও গণমাধ্যমে জানানো হবে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, প্রভাবমুক্ত এবং নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে শিক্ষা প্রশাসন থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষার আগে-পরে যেকোনো ধরনের অনিয়ম রুখতে কেন্দ্রগুলোতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিটি কেন্দ্রের হলরুম সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। কেন্দ্র সচিবের কক্ষ থেকে সরাসরি এই মনিটরিং করার পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারি চালানো হবে। কোনো পরীক্ষার্থী বা পরিদর্শক যদি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটান, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।



