
মূলত পাচার ও অপচয় রোধ করে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা আনতেই সরকারের পক্ষ থেকে কিঞ্চিৎ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আনা মুলতবি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মূলত পাচার ও অপচয় রোধ করে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা আনতেই সরকারের পক্ষ থেকে কিঞ্চিৎ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কোনো সংকট নেই।
তিনি বলেন, সংসদীয় ইতিহাসে মুলতবি প্রস্তাব সাধারণত বিরোধী দল থেকে আনা হয়, ট্রেজারি বেঞ্চ বা সরকারের কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য। তবে আমাদের বর্তমান সংসদীয় সংস্কৃতিতে এই সেশনেই এরই মধ্যে দুটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা ইতিহাসে অনন্য নজির। এই সেশনের মধ্যেই আরো একটি মুলতবি প্রস্তাব অ্যালাউ করলে সেটি ভবিষ্যৎ সেশনগুলোর জন্য একটি নেতিবাচক প্রথা তৈরি করবে।
জ্বালানির দাম বাড়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় জনগণের সুবিধার্থে আমরা একটি টলারেবল বা সহনীয় মাত্রা পর্যন্ত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এক পর্যায়ে যখন আমাদের ন্যাশনাল ইকোনমি আর এফোর্ড করতে পারছিল না, এ জন্য আমরা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি। জ্বালানির দাম কম থাকলে এটি অন্যভাবে অপচয় হওয়ার বা পাচার হওয়ার প্রবণতা থাকে। সেই পাচার বন্ধ করতে এবং একটি ডিসিপ্লিনের মধ্যে আনতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতার অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী এরই মধ্যে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছেন যে আমাদের দেশে তেল ও গ্যাসের কোনো সংকট নেই। বিষয়টি এখন জাতির কাছে পরিষ্কার। সুতরাং সংসদ মুলতবি রেখে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, সংসদ মুলতবি না করে ৬৮ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হতে পারে। স্পিকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, তিনি যেন বিরোধীদলীয় নেতাকে এই বিধিতে নোটিশ দেওয়ার সুযোগ দেন। সংসদ নেতার উপস্থিতিতে আমরা সেখানে গঠনমূলক আলোচনা করতে পারি।



