
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত চালিয়ে এ নৃশংস ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে পিবিআই, ব্রাম্মনবাড়িয়া জেলা।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের প্রবাসী মো. আবু সাদেক মিয়ার কন্যা নিশাত জাহান (৬) বাড়ির পাশের দোকানে চিপস কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে সেদিন রাতেই সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
দুই দিন পর, ১৭ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির নিকটবর্তী একটি পতিত জমি থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পিবিআই তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তে নামে।
ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে অটোরিকশা চালক মো. ইছা মিয়া (২৯)-এর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। পরবর্তীতে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে ইছা মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। জবানবন্দিতে সে জানায়, শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পর দিনভর ঘোরাঘুরির শেষে রাতে নিজ ঘরে নিয়ে যায়।
সেখানে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার শুরু করে। বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে সে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করে।
পরবর্তীতে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নিজ ঘরে লুকিয়ে রেখে পরদিন গভীর রাতে পাশের একটি বিলে ফেলে দেয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।



