জ্বালানি তেলের দাম কোনটা কত বাড়লো?
জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য রাজধানীর একটি পাম্পে লম্বা লাইন।ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারেও। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল শনিবার রাতে সরকার নতুন মূল্য নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা আজ রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক লাফে এভাবে দাম বৃদ্ধিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সমন্বয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা আগে ছিল প্রায় ৮০ ডলারের মধ্যে। যদিও কিছুটা কমে তা ৯০ ডলারের কাছাকাছি আসে, তবে সরবরাহ অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।

দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানীতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে। অনেক পাম্পে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা মাসে প্রায় ৪ লাখ টন। মজুত ও আমদানির সমন্বয়ে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ থেকে প্রতিদিনের সরবরাহ প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে।

অকটেন ও পেট্রলের ক্ষেত্রেও সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, কারণ মূলত এই দুই জ্বালানির জন্যই ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় বেশি হচ্ছে।

এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে জ্বালানি তেলের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেলেও এবারের দাম সেই রেকর্ডও ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম এখন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরবরাহ বাড়ালেই সংকট পুরোপুরি কাটবে না। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিকল্প সরবরাহ উৎস বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।