
মুগদা মেডিকেল কলেজের (মুমেক) সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে বদলির পর ১৩ দিনেও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পার-১ শাখা থেকে যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
এর আগে গত ৩০ মার্চ এক আদেশে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে মুমেকের অধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে বদলি করা হয়। তিনি ১ এপ্রিল মুমেক থেকে রিলিজ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগদানপত্র জমা দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। এরপর ১৩ দিনের মাথায় তাকে ওএসডি করা হয়।
২০২৪ সালে পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। সে সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশগ্রহণ ও অর্থ সরবরাহের অভিযোগ তোলে সরকারপন্থী চিকিৎসকদের একটি অংশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ জুলাই তাকে অধ্যাপক পদ থেকে পদাবনতি দিয়ে স্ট্যান্ড রিলিজ আকারে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওই বছরের ১১ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার সেই আদেশ বাতিল করে।
চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। কলেজের একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তার ভাষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চিকিৎসকদের সর্ববৃহৎ সুপারনিউমারারি পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় তাকে অধ্যক্ষ করা হয়।
দায়িত্ব নেওয়ার সময় মুগদা মেডিকেল কলেজে বাজেট জটিলতার কারণে শিক্ষকরা দুই মাস এবং আউটসোর্সিং কর্মচারীরা ছয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না। যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এ সমস্যার সমাধান করেন। এ ছাড়া ডোনেশনের মাধ্যমে একটি ব্যাংক থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বাস সংগ্রহের সিদ্ধান্তও একাডেমিক কাউন্সিলে গৃহীত হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের এক শিক্ষক বলেন, এসব উদ্যোগের পরও কোনো কারণ ছাড়াই মাত্র দুই মাস ২০ দিনের মাথায় তাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সরানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ ও ২০১৩ সালে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। পরবর্তীতে ২০২১ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেলেও একদিনের মধ্যে সেই আদেশ বাতিল করা হয়।



