
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং কওমী মাদরাসা শিক্ষার স্বীকৃতি বাস্তবায়ন নিয়ে রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় উলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়েখে চরমোনাই)।
তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনী ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, ক্ষমতায় গিয়ে তা বাস্তবায়ন করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যদি কোনো দল ক্ষমতায় গিয়ে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গড়িমসি করে, তবে তা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল এবং তাদের নৈতিকভাবে ক্ষমতায় থাকার অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
তিনি বিএনপির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কওমী মাদরাসা বিষয়ে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় এ বিষয়ে গড়িমসি করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং কওমী শিক্ষার্থীদের যোগ্যতাকে রাষ্ট্রীয় কাজে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় উলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করীম আবরার।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল দ্বীনিয়ার মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন আলেম-ওলামা ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা উচিত এবং এ বিষয়ে আন্দোলন ও আলোচনার মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন।
অন্য বক্তারা বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সভায় বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘোষিত প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।



